পাথওয়ের ইফতার বিতরণ কর্মসূচী | PATHWAY

মহান আল্লাহ তা’য়ালারর অসীম করুনা, মুক্তি ও নাজাতের বার্তা নিয়ে প্রতি বছর আসে পবিত্র মাহে রমজান। ইসলামের শিক্ষা ও মূল্যবোধকে লালন করে বিগত বৎসরের ন্যায় এবারও

বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা পাথওয়ের উদ্যোগে ঢাকা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মাসব্যাপী পবিত্র রমজান উপলক্ষ্যে ইফতার বিতরণের এক বিশাল কর্মসুচী গ্রহন করা হয়েছে। সারাদিনের রোজা রাখার পর সমাজের হতদরিদ্র জনগোষ্টি, পথযাত্রী ও ছিন্নমুল মানুষদের জন্য পাথওয়ের এই মহতী উদ্যোগ।

পাথওয়ে দৃঢ় ভাবে বিশ্বাস করে ইসলামের শিক্ষা মোতাবেক আমরা যদি আমাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে সামর্থ অনুযায়ী মানবিক দৃষ্টিভঙ্গী নিয়ে পিছিয়ে থাকা মানুষের জন্য কিছু করি তা হলে আমাদের সমাজ হতে দারিদ্রতা দুর হবে এবং একটি ন্যায়-ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠিত হবে। দরিদ্র খেটে খাওয়া মানুষ গুলো যাতে সারা দিনের রোজা রাখার পর সামান্য ইফতার কেনার সামর্থ হয় না, স্বাস্থ্য সম্মত ইফতার তাদেও নিকট পৌছে দেওয়ার জন্যই পাথওয়ের এই প্রয়াস। মাসব্যাপী পবিত্র রজমানে ঢাকা শহরের বিভিন্ন জনবসতিপূর্ণ বাস টার্মিনাল, বাজার ও বস্তি এলাকায় আমাদের এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে থাকে। বর্তমানে ঢাকা শহরে প্রায় দুই কোটি লোকের বসবাস।

এই বিপুল জনগোষ্টির মধ্যে বাস টার্মিনাল, বাজার ও বস্তি এলাকায় ইফতারের সময় অনেকেই সময় মত ইফতারের সংস্থান করতে ব্যর্থ হন আমরা ঐ সকল লোকদের মধ্যে সময় মত ইফতার পৌছে দেয়ার লক্ষ্যেই মূলত: আমাদের এই কার্যক্রম। এছাড়া আমরা ঢাকা শহরের অসংখ্য প্রতিবন্ধীদের জন্য ও বিভিন্ন মসজিদ মাদ্রাসায়ও ইফতার বিতরণ করে থাকি। আমাদের সমাজে সাধারণত: প্রতিবন্ধীদেরকে অবহেলা ও নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গী দিয়ে দেখি থাকি।

তাদেরকে যথাযথ প্রশিক্ষন ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গী দিয়ে পরিচর্চা করে তাদেরকেও দেশের দক্ষ জনশক্তিতে পরিনত করা যায় এবং এর মাধ্যমে আমরা একধরনের আত্মশুদ্ধি ও পূণ্যের কাজ করতে পারি। বাংলাদেশের অসংখ্য পরিবার তাদের ছেলে-মেয়েদেরকে ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য মাদ্রাসা গুলিতে ভর্তি  করা হয়, সেখানে শিক্ষার্থীরা পরিবারের থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার কারনে অনেক সময় ভাল স্বাস্থ্যসম্মত খাবার হতে বঞ্চিত হয়। পাথওয়ের উদ্যোগে ঐ সকল ছাত্রছাত্রীদের জন্য উন্নত খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।

পাথওয়ে দৃঢ় ভাবে বিশ্বাস করে এই সকল শিক্ষার্থীরা ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে পরিবার ও সমাজের জন্য ইহকাল ও পরকালের নাজাতের উছিলা হিসাবে কাজ করবে। বাংলাদেশের উপকুলীয় অঞ্চলের নদীতে প্রতি বৎসর মার্চ-এপ্রিল এই দুই মাস ডিম ওয়ালা মাছ সংরক্ষনে মৎস শিকারে সরকারের নিষেধাজ্ঞা থাকার কারনে উক্ত অঞ্চলের জেলে পরিবার গুলি এ সময়ে অত্যন্ত কষ্টে দিনাতিপাত করে থাকে তাই পাথওয়ের পক্ষ থেকে এই সময়ে ঐ সকল জেলে পরিবারের মধ্যে দৈনন্দিন খাদ্য চাউল, ডাউল ও আটাসহ খাদ্য সামগ্রী ও বিভিন্ন ঈদ ও অন্যান্য উৎসবে পুরুষদের মাঝে লুঙ্গি ও পায়জামা-পাঞ্জাবি এবং মহিলাদের মধ্যে শাড়ী কাপড় ও বাচ্চাদের মাঝে শিশু পোষাক বিতরণ করে থাকি এবং ঈদে তাদের মাঝে পোলাউয়ের চাউল, সেমাই, চিনি ইত্যাদি বিতরণ করে থাকি। আমরা আমাদের সীমিত সামর্থ দিয়ে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালনা করে যাচ্ছি।

 

ঐ সকল রোজাদারদের মাঝে সামান্য ইফতার বিতরণের মাধ্যমে আমরা আমাদের সামাজিক ও নৈতিক দায়বদ্ধতা হতেই আমাদের এই প্রয়াস। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে আর্তমানবতার সেবায় কাজ করার তৌফিক দান করুন, আমীন।


Print   Email